জামাতের ভন্ডামীর কিছু নিদর্শন

সাপ্তাহিক ২০০০ এ হাসান নিটোলের একটা প্রচ্ছদ প্রতিবেদন বের হয়েছিল ২০০৮ সালে। নিটোল তার রিপোর্টে (জামায়াত নেতাদের ছেলেমেয়েরা পড়ে স্কুল কলেজ বিদেশে ) অত্যন্ত চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে জামাত নেতাদের ভন্ডামি।

তিনি লিখেছেন সে রিপোর্টে -

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সব সময়ই দাবী করে তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কিরূপ হওয়া উচিত সেই বিষয়ে তাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। এ দেশে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি যেটি তাদের ভাষায় আধুনিক শিক্ষা, এই আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান।...

গোলাম আযম ‘শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী রূপরেখা’ পুস্তিকার ৭ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, ‘ইংরেজ প্রবর্তিত আধুনিক শিক্ষাই যদি আদর্শ শিক্ষা বলে প্রচারিত হয় তাহলে এ শিক্ষার ফল দেখে কোনো ইসলামপন্থী লোকই সন্তুষ্টচিত্তে এ ধরনের শিক্ষাকে সমর্থন করতে পারে না।’ ১২ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘পাশ্চাত্য মতাদর্শে বিশ্বাসীরা মানুষকে অন্যান্য পশুর ন্যায় গড়ে তুলবার উপযোগী শিক্ষাপদ্ধতির প্রচলন করেছেন। এ শিক্ষা দ্বারা মানুষ্যত্বের বিকাশ অসম্ভব।’ এই বইয়ের ২১ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের গোটা পরিবেশ একেবারেই ইসলামবিরোধী।’

ভালো কথা, কিন্তু জামাতের মূল নেতাদের সন্তানরা কোথায় পড়াশোনা করছে/ করেছে? নিশ্চয়ই মাদ্রাসা-মক্তবে? অনুসন্ধান করে পাওয়া গেল এর উল্টো চিত্র। কিন্তু কেন ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলে নিজেদের ছেলেমেয়েদের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়াচ্ছেন - এই ব্যাখ্যা গোলাম আযমের কাছে চাইতে গেলে সেই ভন্ডটা নির্লজ্জ ভাবে বলে-

"আমি আমার ছেলেদের মাদ্রাসায় দেইনি এজন্য যে আমি তাদের যোগ্য বানাতে চাই"

তাহলে, মাদ্রাসা শিক্ষার গুনাগুন কীর্তন করে অন্যকে মাদ্রাসায় পড়ার জন্য প্ররোচিত করে গোলাম আজম। কিন্তু নিজের ছেলে-মেয়েদের বেলায় মাদ্রাসায় পড়ায় না। তাহলে কি মাদ্রাসায় পড়লে যোগ্য ভাবে মানুষ গড়ে উঠে না? যদি না-ই উঠে, তবে হাজার হাজার মানুষকে গোলাম কেন বিভ্রান্ত করছে? কেন করছে এইসকল মিথ্যাচার?

দেখুন,জামাতের নেতাদের ছেলে মেয়েরা কোথায় পড়েছে-

গোলাম আযম (৬ ছেলে)
সাবেক আমীর, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ

১. আব্দুল্লাহহিল মামুন আল আযমী : খিলগাঁও গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে
এসএসসি, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার
থেকে অর্থনীতিতে এমএ।

২. আব্দুল্লাহ হিল আমিন আল আযমী : খিলগাঁও গর্ভমেন্ট স্কুল
থেকে এসএসসি, ঢাকা কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাংলাদেশ
স্বাধীন হলে দেশত্যাগ এবং লন্ডনে নিটিং ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করেন।

৩. আব্দুল্লাহ হিল মোমেন আল আযমী : সিদ্ধেশ্বরী স্কুল থেকে এসএসসি, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ থেকে এইচএসসি। একই কলেজ থেকে বিকম পাস করেছেন।

৪. আব্দুল্লাহ হিল আমান আল আযমী : আমান আযমী ১৯৭৫ সালে সিলেট সরকারি অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি, ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ থেকে তৃতীয় বিভাগে এইচএসসি পাস। এরপর ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন (সবার জন্য নির্ধারিত তারিখের একমাস পর তিনি মিলিটারি একাডেমীতে যোগদান করেন)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী পাওয়া একজন অতি সাধারণ ছাত্র জিয়ার সময় সেনাবাহিনীতে কিভাবে কমিশন পেলেন সে প্রশ্ন অনেকেরই। ২০০৯ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে কর্মরত অবস্থায় বরখাস্ত।

৫. আব্দুল্লাহ হিল নোমান আল আযমী : ঢাকা গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন।

৬. আব্দুল্লাহ হিল সালমান আল আযমী : মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি, এইচএসসি ঢাকা কলেজ থেকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অর্নাসে ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি। এরপর আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং মার্স্টাস করেন।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

আলী আহসান মুজাহিদ (৩ ছেলে ১ মেয়ে)
সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ

১. আলী আহমেদ : আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও
কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে অর্নাস। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি
ইউনিভার্সিটিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন।

২. আহমেদ আহকিক : মগবাজার আইএস স্কুল কলেজ
থেকে এসএসসি, এইচএসসি করেছেন ঢাকা কলেজ থেকে, ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে অর্নাস করেছেন।

৩. আহমেদ মাবরুর : আইএস স্কুল থেকে এসএসসি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অর্নাস, আল মানারাত ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স।

৪.তামরিনা : ভিকারুননিসা স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি, আল মানারাত ইউনিভার্সিটিতে ইংলিশে অনার্স।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

আব্দুল কাদের মোল্লা (৪ মেয়ে, ২ ছেলে)
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ

১. আমাতুল্লাহ পারভীন : ইস্পাহানী গার্লস স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও এইসএসসি, ইডেন কলেজ থেকে অর্নাস ও মাস্টার্স করেছেন।

২. হাসান জামিল : বাদশাহ ফয়সাল স্কুল থেকে এসএসসি, তেজগাঁও
কলেজ থেকে এইচএসসি, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ।

৩. আমাতুল্লাহ সায়মিন : এসএসসি ও এইচএসসি ইস্পাহানী স্কুল ও কলেজ থেকে, অনার্স করেছেন হোম ইকোনমিক্স কলেজ থেকে, বর্তমানে একই কলেজে ফুড অ্যান্ড নিউট্রেশন বিষয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।

৪. হাসান মওদুদ: রাইফেলস পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়াতে অধ্যয়নরত।

৫. আফতুল্লাহ লারদীন : ইস্পাহানী গার্লস স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি।

৬. আমাতুল্লাহ নাজনীন : ইস্পাহানী গার্লস স্কুল ও কলেজে অধ্যয়নরত।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
(৫ ছেলে, ১ মেয়ে)
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ

১. হাসান ইকবাল ওয়ামী : এসএসসি ও এইচএসসি ন্যাশনাল ব্যাংক স্কুল ও কলেজ থেকে। ইসলামি ইউনিভার্সিটি থেকে মিডিয়া এন্ড ম্যাস কমিনিকেশনে অনার্স করেছেন, এখন মাস্টার্স এ অধ্যয়নরত। সামহোয়ারইনের ব্লগার।

২. হাসান ইকরাম : এসএসসি ও এইচএসসি ন্যাশনাল ব্যাংক স্কুল ও কলেজ থেকে, অনার্সে ভর্তির অপেক্ষায়।

৩. হাসান জামান : এসএসসি ও এইসএসসি ন্যাশনাল ব্যাংক স্কুল থেকে, অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছেন মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটিতে।

৪. হাসান ইমাম : এসএসসি ও এইচএসসি ন্যাশনাল ব্যাংক স্কুল থেকে,
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ অধ্যয়নরত।

৫. আহম্মদ হাসান জামান : ও লেভেল পরীক্ষা দেবেন একাডেমিয়া ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে।

৬. আতিয়া : মিরপুর লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে কেজি ক্লাসে পড়ছে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

শাহজাহান চৌধুরী (২ মেয়ে)
সাবেক সংসদ সদস্য, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ

১. তানজিলা আক্তার চৌধুরী : চট্টগ্রাম পাথরঘাটা গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং একই কলেজে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছেন।

২. শেরিফা আক্তার চৌধুরী : চট্টগ্রাম পাথরঘাটা গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং একই কলেজে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছেন।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

মীর কাসেম আলী (২ ছেলে, ৩ মেয়ে)
সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ

স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন

১. মোহাম্মদ বিন কাসেম (সালমান) : আল মানারাত ইংরেজি মিডিয়াম থেকে এ লেভেল এবং ও লেভেল করেছেন। এরপর পাকিস্তান ডেন্টাল কলেজে পড়েছেন।

২. মীর আহমেদ বিন কাসেম (আরমান) : আল মানারাত থেকে এ লেভেল এবং ও লেভেল। এরপর লন্ডনে বার এট ল সম্পন্ন করেছেন।

৩. হাসিনা তাইয়্যেবা : অনার্স এবং মাস্টার্স করেছেন হোম ইকোনোমিক্স কলেজ থেকে।

৪. সুমাইয়া রাবেয়া: আল মানারাতে স্কুল ও কলেজ থেকে এ লেভেল এবং ও লেভেল সম্পন্ন করার পর আল মানারাত ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছেন ।

৫. তাহেরা হাসনিন : আল মানারাতে এ লেভেলে পড়ছেন।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

কওমী মাদ্রাসার ডিগ্রীধারীদের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে ইসলামী
ঐক্যজোট। কিন্তু ঐক্যজোট নেতাদের সন্তানরা কী পড়ছে কওমী
মাদ্রাসায়? এ রকম একজন... মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
(৩ ছেলে, ২ মেয়ে)

সহসভাপতি, ইসলামী ঐক্যজোট এবং সম্পাদক, মাসিক মদীনা

১. রাবেয়া পারভিন : গেন্ডারিয়া মনিজা রহমান গার্লস হাইস্কুল থেকে
এসএসসি, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে
এইচএসসি।

২. মোস্তফা মঈন উদ্দিন খান : গেন্ডারিয়া হাইস্কুল থেকে
এসএসসি পরীক্ষা দিলেও পাস করেন নাই।

৩. মোর্তোজা বশিরউদ্দিন খান : কোরআনে হাফেজ হয়েছেন
চাঁদপুর শাহতলী মাদ্রাসা থেকে। এরপর করাচি নিউটাউন মাদ্রাসায়
ভর্তি হয়েছিলেন।

৪. আহমদ বদরউদ্দিন খান : আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল
পাশ করেছেন, মক্কা ইউনিভার্সিটিতে ইসলামী ইকোনমিতে অনার্স
করেছেন।

৫. ইয়াসমিন : গেন্ডারিয়া মনিজা রহমান হাইস্কুল থেকে
এসএসসি পাস করেছেন

5
আপনার রেটিং: কোনোটি নয় গড়: 5 (2 ভোট)

* প্রতিক্রিয়া *



গোলাম আজমের মূল লেখাটা ছিলো এইরকম-

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সাবেক আমীর গোলাম আযম এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কী রকম হওয়া উচিত, সে বিষয়ে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

‘শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী রূপরেখা’ নামে ওই প্রবন্ধ ২০০৪ সালের জুন মাসে পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়। পুস্তিকাটিতে এ দেশে একমুখী ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার ইসলামী রূপরেখা বিষয়ে বেশ কিছু বক্তব্য উপস্থিত হয়েছে। এসব বক্তব্য তিনি এবং তার দলের শিক্ষানীতির আদর্শ। ‘শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী রূপরেখা’ নামক পুস্তিকার ৭ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ইংরেজ প্রবর্তিত আধুনিক শিক্ষাই যদি আদর্শ শিক্ষা বলে প্রচারিত হয় তাহলে এ শিক্ষার ফল দেখে কোনো ইসলামপন্থী লোকই সন্তুষ্টচিত্তে এ ধরনের শিক্ষাকে সমর্থন করতে পারে না।’

এখানে আধুনিক শিক্ষা বলতে গোলাম আযম বুঝিয়েছেন, এ দেশের প্রচলিত স্কুল-কলেজে প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থাকে। একই পুস্তিকার ১২ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘পাশ্চাত্য মতাদর্শে বিশ্বাসীরা মানুষকে অন্যান্য পশুর ন্যায় গড়ে তুলবার উপযোগী শিক্ষাপদ্ধতির প্রচলন করেছেন। এ শিক্ষা দ্বারা মানুষ্যত্বের বিকাশ অসম্ভব।’ এ ছাড়াও প্রচলিত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক গলদ নির্ণয়ে একই পুস্তিকার ১৭ পৃষ্ঠায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘যেকোনো শিক্ষাব্যবস্থার মূলে যে প্রশ্নটি বিশেষভাবে সক্রিয় থাকে তা এই যে, তা দ্বারা কোন ধরনের মানুষ গড়ে তোলা হবে। এ দেশের প্রচলিত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাটি ইংরেজ শাসকদের অবদান। ইসলামী আদর্শের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত কর্মী তৈরি করার উদ্দেশ্যে ইংরেজগণ নিশ্চয়ই এ দেশের আধুনিক শিক্ষার প্রবর্তন করেনি।’ এই বইয়ের ২১ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের গোটা পরিবেশ একেবারেই ইসলামবিরোধী।’

২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জোট সরকার ২০০৬ সালে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় ফাজিল ও কামিলকে ডিগ্রি ও মাস্টার্সের সমমর্যাদা প্রদান করে। দুটি শিক্ষাব্যবস্থায় দুই ধরনের ডিগ্রিকে তৎকালীন সরকারের সমমর্যাদা প্রদান করার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রচেষ্টা ছিল উল্লেখ করার মতো। সেই প্রচেষ্টার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে গোলাম আযম সাপ্তাহিক ২০০০কে জানান, ‘ফাজিল ও কামিলকে ডিগ্রি ও মাস্টার্সের সমমর্যাদা দেয়ার জন্য চার বছর চেষ্টা করতে হয়েছে। বেগম জিয়া একটি কমিটি করেছিলেন, যেখানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. ওসমান ফারুক, মান্নান ভূঁইয়াসহ আরো কয়েকজন ছিলেন। সেখানে সমস্যা করলেন মান্নান ভূঁইয়া। তিনি এটাকে আটকে রেখেছিলেন। তারপর যখন বেগম জিয়ার কাছ থেকে মানড়বান ভূঁইয়ার ওপর চাপ দেয়া হলো তখন তিনি মিটিং ডাকলেন। এরপর এটিকে পাস করাতে এক বছর লেগে গেছে।’

গোলাম আযম শিক্ষাব্যবস্থার ইসলামী রূপরেখা পুস্তিকায় আলিয়া মাদ্রাসার আলিম ক্লাস পর্যন্ত আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বলতে চেয়েছেন। কিন্তু কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রাচীন ধরনের বলতে চেয়েছেন। ওই পুস্তিকার ১৫ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুটি শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে।

একটি হলো প্রাচীন ধরনের মাদ্রাসা শিক্ষা, অপরটি আধুনিক শিক্ষা নামে পরিচিত। যারা মাদ্রাসা শিক্ষা লাভ করে, তারা কুরআন, হাদীস, ফিকাহ ইত্যাদি অধ্যয়ন করে বটে কিন্তু আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করার কোনোই সুযোগ পায় না। ফলে মানব সমস্যার যে সুষ্ঠু সমাধান আল্লাহর কুরআন ও রসুলের হাদীসে দেয়া হয়েছে, তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার কোনো দৃষ্টিভঙ্গিই তারা লাভ করতে পারে না। এ মাদ্রাসাসমূহ কওমি মাদ্রাসা নামে পরিচিত। অবশ্য আলীয়া মাদ্রাসায় আলিম ক্লাস পর্যন্ত আধুনিক বিষয়ও শিক্ষা দেয়া হয়।’ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আশীর্বাদপুষ্ট হলো আলীয়া মাদ্রাসা। আর এ কারণেই ফাজিল ও কামিলকে ডিগ্রি ও মাস্টার্সের মর্যাদা প্রদান তাদের প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। আলিয়া মাদ্রাসায় ইসলামী বইয়ের পাশাপাশি আধুনিক বইগুলোও সিলেবাসের অন্তর্গত। আলিয়া মাদ্রাসার সিলেবাস নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও একমাত্র জামায়াতে ইসলামীর কল্যাণেই একটি ডিগ্রিকে অন্য একটি ডিগ্রির সমমর্যাদা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় দুটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত। একটি আলিয়া, অন্যটি কওমি। বিগত জোট সরকারের আমলে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিটিকে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। যদিও কওমি মাদ্রাসার সিলেবাস যথেষ্ট প্রাচীন এবং আধুনিক যুগের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন একটি অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তারপরও কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিকে সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে কারণ তৎকালীন বেগম জিয়ার বিএনপি সরকারের সঙ্গে ছিল ইসলামী ঐক্যজোট (চার দলের একটি শরিক)। তাদের প্রচেষ্টায় নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যেই ইসলামী ঐক্য জোটের অবস্থান কওমি মাদ্রাসার পক্ষে।

মানে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উপর কি পরিমাণ জোর দিয়েছে। আবার সেই লোক-ই তার ছেলে মেয়েদের কই পড়াচ্ছেন, দেখেন-




এগুলো চিরকালীন ভণ্ড। এদের কিছু বলার নেই। সাধারণ মানুষের কাছে এই ভণ্ডগুলোর ভণ্ডামিকে তুলে ধরা প্রয়োজন।

===========================================

শিক্ষা যেখানে অসম্পূর্ণ, জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।

===========================================




ইহাদের লজ্জা নাই, তাই আর বলে কি হবে?




ফাডাইলাইসেন মিয়া ভাই/বোন

=============================================
বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটা চাওয়াই আমার। রাজাকার-আলবদরদের বিচার চাই।
=============================================




এইসব ভন্ড যখন মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য আন্দোলন করে তখন এদের ধরে জাস্ট ধোলাই দেয়া উচিত, আমি বুঝিনা জামাতি নেতাদের জন্য সরকার নিয়মতান্ত্রিক মামলার ব্যবস্থা কেন করে? আজব দেশ! এইগুলোকে পিটায়া মেরে ফেললে কার কি এসে যা?




লিস্টি করা পর্যন্তই হয়তো সাড় হবে।

এইবার দেখেন কিছু স্ক্রীনশট দেই। আপনি ব্লগে এসে সবাইকে সচেতন করছেন, কিন্তু আমি যদি লুঙ্গির গিট না খুলি, আমায় বুঝায় কোন পাগলে-

১. এইটার গায়ের চাদরটা খিয়াল কৈরা-

২. ইহাকে চাপ প্রদান করা হৈলে -

এইটিকে দেখুন-

এই ছাগুটাতো বিশাল সার্টিফিকেট দিয়ে বেড়াচ্ছে-

ঐ ব্লগের আকিকা দিয়া নাম চেঞ্জ করে ছাগু ব্লগ রাখা উচিত।


* নতুন মন্তব্য লিখুন *

তথ্যটি সবাই দেখতে পাবে না। সংরক্ষিত থাকবে।
  • ওয়েবপেজের ঠিকানা এবং ইমেল ঠিকানা স্বয়ংক্রীয়ভাবে সংযুক্তিতে (লিংক) রূপ নেবে।
  • লাইন এবং প্যারাগ্রাফ স্বয়ংক্রীয়ভাবে ব্রেক করবে
  • টেক্সচুয়াল ইমোটিকন স্বয়ংক্রীয়ভাবে ইমেজে রূপ নেবে।

আরো বিস্তারিত ফর্ম্যাটিং অপশন (আবশ্যক নয়)

কোনো সফটওয়্যার ছাড়াই বাংলা লিখুন





(বাংলা ও ইংরেজী পরিবর্তন করতে Ctrl+G চাপুন)